Description
এই বইটি লেখার পেছনে কোনও বড় কৃষিজমি বা বাণিজ্যিক লক্ষ্য নেই। আছে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত একটি পথনির্দেশ—যার মাধ্যমে যে কেউ নিজের ঘরে রাসায়নিকমুক্ত খাবার উৎপাদন করতে পারেন। এই গ্রন্থে যা কিছু লেখা হয়েছে— তা নিজস্ব অভিজ্ঞতা ,বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য ,এবং সাধারণ পাঠকের ভাষায় উপস্থাপিত।
আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা ক্রমশ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। কংক্রিটের শহর, দূষিত পরিবেশ, ভেজাল খাদ্য ও রাসায়নিকনির্ভর কৃষি আমাদের শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এমন এক সময়ে ঘরে বসে জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুধু একটি শখ নয়—এটি হয়ে উঠছে প্রয়োজন, সচেতনতা ও আত্মরক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই বইটি মূলত সেইসব মানুষদের জন্য, যাঁরা বিশ্বাস করেন—“নিজের খাবারের উৎস নিজের হাতেই থাকা উচিত।”
শহরের ছোট বারান্দা, ছাদের কোণ, জানালার ধারে রাখা একটি টব—এই অল্প জায়গাকেই কীভাবে একটি সবুজ, প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ বাগানে রূপান্তর করা যায়, তারই বাস্তব ও সহজ দিশা দেওয়া হয়েছে এই গ্রন্থে। বইটিতে আলোচিত হয়েছে—
• সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ
• টব, ট্রে ও সীমিত জায়গায় চাষের কৌশল
• ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে সার ও কীটনাশক তৈরি
• ঋতুভিত্তিক পরিকল্পনা
• শিশু ও পরিবারের সঙ্গে বাগানচর্চার আনন্দ
• ভবিষ্যতের কৃষি—হাইড্রোপনিক ও অ্যারোপনিক ধারণা
এই গ্রন্থ কোনও তাত্ত্বিক কৃষিবিজ্ঞান নয়; এটি অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়। নতুন বাগানপ্রেমী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ ছাদকৃষক—সবাই যেন এই বই থেকে উপকার পান, সেটিই লেখার মূল উদ্দেশ্য। আশা করা যায়, এই বইটি পাঠকের ঘরে শুধু সবজি নয়, বরং সবুজ চিন্তা, সুস্থ জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
প্রদীপ কুমার রায়—একজন গবেষক মন, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী এবং বহুগ্রন্থ-রচয়িতা। সনাতন দর্শন, পুরাণ, শিবশক্তি তত্ত্ব ও সাহিত্য তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র। তার লেখনী সহজ, সরল কিন্তু গভীর জ্ঞানে পরিপূর্ণ। পাঠক তাঁর বইয়ে পান—জীবনের দর্শন, ধ্যান, শক্তি, যোগ, ভক্তি এবং অন্তরজাগরণের সুনিপুণ মেলবন্ধন। তার লেখার মূল উদ্দেশ্য—মানুষকে নিজের অন্তরের শিবকে চিনতে সাহায্য করা।
ব্যাংকের ব্যস্ত অফিসঘর, হিসাবের অগণিত সংখ্যা এবং দায়িত্বের ভারে আবদ্ধ একটি দিনমান জীবনের মধ্যেও একজন মানুষ নীরবে বড় হয়ে ওঠেন—স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার পুরশুরা শাখায় চিফ ম্যানেজার (অফিং) পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবসর নেন। ব্যাংকিং-এর নানা দায়িত্ব—ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, এইচআর ম্যানেজার, সিস্টেম ম্যানেজার—এই সমস্ত ভূমিকাগুলো যেন তাঁকে শুধু একজন সফল অফিসার নয়, বরং মানুষের জীবন, সম্পর্ক, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের গভীরতা বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে।
কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় কর্মজীবনে নয়—তাঁর অন্তরের অনুসন্ধানে। সংখ্যার জগতের বাইরে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন আরেকটি জগৎ—মায়া, রহস্য, প্রেরণা ও সৃজনশীলতার জগৎ। জাদুবিদ্যার প্রতি গভীর আকর্ষণ এবং লেখালেখির প্রতি অদম্য টান তাঁকে পথ দেখিয়েছিল তাঁর প্রথম বই “প্রেরণা” (২০১৩) রচনার দিকে। সেই থেকে কলমের সঙ্গে তাঁর যাত্রা আর থেমে থাকেনি। দেশের নানান খ্যাতনামা পত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। জাদুবিদ্যার সূক্ষ্ম তত্ত্বে তাঁর দক্ষতা তাঁকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে—যেখানে তিনি স্থান পেয়েছেন Magicians’ World Directory–তে।
একাডেমিক দিক থেকেও তিনি এক উজ্জ্বল আলো।ভৌতবিজ্ঞানে অনার্স-সহ BSc, কম্পিউটার সায়েন্সে MSc, PGDCA, তার সঙ্গে CCNA (Global) এবং CAIIB—জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দক্ষতার বিস্তৃত পরিসর যেন তাঁর জীবনের মধ্যে এক সুন্দর সমন্বয় তৈরি করেছে। ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, কোবল প্রোগ্রামিং, IRDAI কোর্স—জ্ঞান অর্জনের পথ তিনি কখনোই বন্ধ করেননি।
অবসরোত্তর জীবনে থেমে না গিয়ে তিনি শুরু করেছেন আরেকটি যাত্রা—জ্ঞান বিতরণের, মানুষকে স্পর্শ করার, এবং নিজের চিন্তা বিশ্বজগতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যাত্রা। এখন তিনি যুক্ত আছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ হিসেবে। পরিচালনা করছেন ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ, ব্লগ এবং ওয়েবসাইট—যেখান থেকে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন পাঠকদের সঙ্গে।
আজ পর্যন্ত তিনি রচনা করেছেন ১৪০ টিরও বেশি গ্রন্থ—যা দেশ-বিদেশের নানান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে গেছে অগণিত পাঠকের হাতে, ছড়িয়ে দিয়েছে চিন্তা, জ্ঞান ও প্রেরণার আলোকধারা। তিনি কেবল একজন লেখক নন—একজন অনুসন্ধানী, একজন স্বপ্নসাধক, একজন ধ্যানমগ্ন যাত্রী, যিনি প্রতিটি বইয়ে ছড়িয়ে দিতে চান তাঁর সামনে খোলা পথের আলো।
Website : https://pkrburpub.com