You can access the distribution details by navigating to My pre-printed books > Distribution
যা কিছু শুরু হয় তা শেষ হতেই হবে, এটাই জগতের নিয়ম। শুরু যখন হয়েছিল, তখন নারুর বৌদ্ধিক যাত্রাও সমাপ্ত হবে একথা ছিল পূর্বনির্ধারিত। যে কোন যাত্রার সমাপ্তি পূর্ব-নির্ধারিত হলেও সব সময় তা কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছায় না। তার মূল যাত্রা সমাপ্ত করার উদ্দেশ্যে নারু সমর্থ হয়েছিল পথিমধ্যে অনেক আকর্ষণীয় নতুন যাত্রার সূচনার হাতছানিকে অগ্রাহ্য করতে। সম্পূর্ণ যাত্রা শেষ হয়েছিল কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে, তবে তার বৌদ্ধিক যাত্রার স্বপ্নময় অংশের সমাপ্তি ঘটেছিল একথা অনস্বীকার্য।
ভারত সম্পর্কে উপযুক্তরূপে অবহিত বিদ্বানগণ ভারতীয় উপমহাদেশ সম্পর্কিত কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে গেলে রামায়ণ ও মহাভারত থেকে সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যন্ত যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করে থাকেন। সেই প্রকার যোগসূত্র স্থাপনের প্রচেষ্টার মূল কারণ রামায়ণ ও মহাভারতে প্রদত্ত বিস্তৃত ভৌগোলিক বিবরণ, যাকে কোনো ভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তুলনায় সাম্প্রতিকতর সময়ের বিবরণ হওয়ার কারণে সেই ধরণের প্রচেষ্টায় মহাভারত রামায়ণের তুলনায় অধিকরূপে ব্যবহৃত হয়। পৃথিবী মানুক বা না মানুক, অথবা বক্তার নিজের মনে সন্দেহের উদ্রেক হওয়া সত্ত্বেও ভারতের অতীতের রূপরেখা সৃষ্টিতে মহাভারতের গুরুত্বকে কোনো ভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
প্রাগৈতিহাসিক ভারতীয় রচনা সমূহে দুটি মূল ধারার উপস্থিতি আছে যাকে মেনে নেওয়া দুরূহ কাজ, অথচ কোনো ক্রমেই সেগুলিকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করা যায় না। তাদের মধ্যে একটি হল জগতের সৃষ্টির তত্ত্ব, এবং অপরটি হল ভুলে যাওয়া কোনো সময়ে ভারতভূমকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাবলীর বিবরণ। ভুলে যাওয়া কোনো সময়ের ঘটনাবলীর সেই বিবরণগুলিকে বলা হয়েছে ‘ইতিহাস’। মুখ্যত, সেই বিবরণগুলি প্রদত্ত হয়েছে বর্তমানে মহাকাব্য রূপে পরিচিত রামায়ণ ও মহাভারতে। সেই সব ঘটনাবলীর স্বপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ অথবা সেগুলিকে জ্ঞাত বাস্তবের সাথে যুক্তিপূর্ণ রূপে সম্পর্কিত করার মত প্রমাণ আজ পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব হয়নি। একই রকম ভাবে, মহাভারতের নানা উল্লেখের সাথে বর্তমান ভারতের নানা পরিচয়ের বিশেষ করে স্থান নাম ও বংশ পরিচয়ের সাযুজ্য ব্যতীত অপর বিশেষ কোনো সম্পর্ক সাধন করা সম্ভব হয় নি। তার্কিক রূপে, সেই প্রকার কোনো সাযুজ্য পরবর্তী কালে ভারতীয় সমাজে মহাভারতের তথাকথিত কাল্পনিক কাহিনী অনুসরণ করার ফল রূপে উদ্ভূত হয়েছে বলে অগ্রাহ্য করে দেওয়া যেতে পারে। মহাভারতের কালের সাথে বর্তমান সময়ের প্রামাণিক হিস্ট্রির সুদূরতম অতীত কালের মাঝে একটি অমীমাংসিত কালখন্ড আছে। বর্তমান সময়ের প্রামাণিক হিস্ট্রি জানায় ভৌগোলিক বিচারে গাঙ্গেয় সমভূমির হিস্ট্রি পাঁচ হাজার বছরের অধিক প্রাচীন হওয়া সম্ভব নয়, কারণ তার অতীতকালে সেখানে বাসযোগ্য ভূমি ছিল না। বাংলা অববাহিকা অঞ্চল বাসযোগ্য হয়ে উঠতে সময় লেগেছে আরও প্রায় হাজার দুয়েক বছর অধিক, অর্থাৎ বাংলা অববাহিকায় বড় মানব সমাজের সৃষ্টি সম্ভব হয়নি বর্তমান সময় হতে তিন-চার হাজার বছর পূর্বকাল পর্যন্ত।
বর্তমান পৃথিবী যে কাঠামো অনুসরণ করে ঘটমান বর্তমানের নানা প্রকারে বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রাখে তাকে হিস্ট্রি বলা হয়ে থাকে, ইংরেজি ভাষায়। ‘হিস্ট্রি’ শব্দের কোনো প্রকৃত সমশব্দ সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় উপস্থিত নেই। সেই ধারা অনুসারে ভারতের মানুষ দৈনন্দিন ঘটনাপ্রবাহের লিপিবদ্ধকরণ করে নি, অন্তত মানব সমাজের হিস্ট্রির বর্তমান পর্যায়ে। য়ুরোপীয় বিদ্বানগণ এবং সেইসাথে বাংলার নবজাগরণের বিদ্বানগণ আশ্বস্ত হয়েছিল যে বাংলার কোনো হিস্ট্রি নাই।
মহাভারতের কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যতিবিহীন ধারাবিবরণী সৃষ্টি করার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা প্রদর্শন করেছেন বাংলার নবজাগরণের জ্যোতিষ্ক-সম বিদ্বানগণ, এশিয়াটিক সোসাইটির জ্ঞানীগুণীগণ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের বিদ্বজ্জন। সেই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। ভারতের জ্ঞাত হিস্ট্রিকে মহাভারতের কালের ইতিহাসের সাথে একই সূত্রে বাধা সম্ভব হয়নি কোনোভাবেই; না ভৌত প্রমাণের ভিত্তিতে, না তার্কিক ভিত্তিতে। এমনকি প্রাগৈতিহাসিক ভারতীয় সাহিত্য, যাকে বর্তমানে কাল্পনিক কাহিনী রূপে সাব্যস্ত করা হয়, সেখানে বর্ণিত কোনো সূত্র দ্বারাও সেই সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।
নারুর বৌদ্ধিক যাত্রা তাকে দেখিয়েছিল যে ‘ইতিহাস’ আছে কেবল বাংলা তথা ভারতের। পৃথিবীর অন্য কোনও স্থানের ‘ইতিহাস’ নেই। যতদূর নারু দৃষ্টিনিক্ষেপ করতে সমর্থ হয়েছে তাতে তার মনে হয়েছে যে ভারতের ইতিহাস ও হিস্ট্রির যোগসূত্র সাধনের একটিই সূত্র আছে, আর সেই সূত্র ভারতভূম হতে বহুদূরে অন্য এক মানবসমাজের কিম্বদন্তীর অঙ্গ। সর্বোপরি, সেই সূত্র বাংলা সম্পর্কিত। এই পুস্তকটিতে নারুর স্বপ্নের যাত্রার শেষে উদ্ভূত সেই প্রকার সংযোগ স্থাপনের এক মস্তিষ্ক প্রসূত, অনুমিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই বিবরণ প্রাচীন পৌরাণিক বর্ণনা হতে যুক্তিসিদ্ধ পদ্ধতিতে উপনীত হওয়া এক সিদ্ধান্তের বর্ণন করে।
Currently there are no reviews available for this book.
Be the first one to write a review for the book বাংলার উৎপত্তি পঞ্চদশ পর্ব স্বপ্নের সফরের সমাপ্তি কিংবদন্তী পার হয়ে.