You can access the distribution details by navigating to My pre-printed books > Distribution
মৃত্যুই মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল করে দেয়। বয়সের দম্ভ একটা সময় তাকে কঠোর কঠিন ও সাহসী বানাতে পারে বটে। কিন্তু সেটা সাময়িক। বস্তুত আমাদের জীবনের সবচেয়ে দুর্বলতা নিহিত আছে মৃত্যু রহস্যের মধ্যে। আর আমার মনে হয় এই দুর্বলতা প্রত্যেক মানুষের ভেতর বর্তমান।
মানুষের অনেক কিছুই বিশ্বাস করে না। আবার কেউ দেখা যায় মনের মধ্যে বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ওপর তা প্রকাশ করতে চায় না। সত্য মিথ্যার মধ্যে আসলে পার্থক্যের পরিধি কিন্তু খুব কম। মানুষ মারা গেলে আসলে সে মিথ্যা হয়ে যায়। আর যার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব নেই সে তো একপ্রকার মিথ্যার প্রকারান্তর।
ভূত-প্রেত অলৌকিকতা দেব-দেবী তন্ত্র মন্ত্র সাধনা ধ্যান এসব অবিশ্বাস্য বলে কেউ উড়িয়ে দিতে পারে না। কারণ এই ব্যাপারে কোন রকম প্রমাণ নেই। মৃত্যুর পর মানুষের অস্তিত্ব থাকে বা না – এ ব্যাপারে যথেষ্ট তর্কের সুযোগ আছে কিন্তু কেউ জোর দিয়ে হ্যাঁ কিংবা না কথাটা উচ্চারণ করতে পারে না । তার কারণ এ ব্যাপারে আমাদের হাতে কোন প্রমাণ নেই। এক্ষেত্রে প্রমাণ আছে, এ ব্যাপারটা কিন্তু কিছুটা অস্পষ্ট হলেও অনেকেই এর পক্ষে দাবি রাখে।
আমি বলবো, তবু আমাদের বিশ্বাস করতে হয়। শাশ্বত সত্য জন্ম মৃত্যুর আঙ্গিনায় সবচেয়ে বড় সত্য এটাই। আর মৃত্যুর পর তার অবস্থান কোথায় তার কোন দলিল পত্র আমাদের হাতে নেই।
আসলে সত্যি মিথ্যা সব ঘটনা আমাদের স্বাভাবিক জীবনের মাঝে প্রমাণ হাতে নিয়ে ঘুরে না। আমাদের প্রাত্যহিক জীবন যাত্রার কার্যকলাপ শব্দ আচার ব্যবহার,কথা কথোপকথনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই বিশ্বাসই হয় এর আধারে। আমাদের শাস্তি বিচার আদালত কারাগারে জেল এসবের আওতায় বিশ্বাস অবিশ্বাসের মূল্য একমাত্র প্রমাণের আধারে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে চাই প্রমাণ আর এই প্রমাণের অভাবে কত না নির্দোষ যাবজ্জীবন কারাবাস কিংবা ফাঁসির দড়িতে ঝুলেছে। তাই বলবো, প্রমাণ নয় মৃত্যু যেমন সত্য তেমনি মৃত্যুের পরবর্তী জগতে অস্তিত্ব তেমনি সত্য। কেউ যদি একে অসত্য বলে তবে বলব, তার প্রমাণ দিন। আমি বলতে পারি পৃথিবীর অনেক মানুষ আছেন যারা প্রত্যক্ষ করেছেন অলৌকিকতা, অনেকেই জানেন ভুত-প্রেত অলৌকিকতার অস্তিত্বর কথা। অনেকেই দেখেছেন, অনেকেই অনুভব করেছেন। স্থান-কাল-পাত্রের উপস্থিতিতে এই বিশ্বাস মানুষ অর্জন করার সুযোগ পায়।
আমার জীবনে এমনি ঘটেছে অনেক কিছু, এত কিছু আমি প্রত্যক্ষ করেছি যে সে সব ভৌতিক ঘটনা পেরানরমাল ঘটনাগুলোকে আমি কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। জীবনে যে সব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি বা স্পষ্টত অনুভব করেছি আমার বর্তমান গল্পগুলির বেশিরভাগই তার নজির হয়ে থাকবে। ধন্যবাদ – লেখক –তাপসকিরণ রায়।
Currently there are no reviews available for this book.
Be the first one to write a review for the book হ্যানটেড কাহিনী ২.