You can access the distribution details by navigating to My pre-printed books > Distribution
অনুধাবনযোগ্য অতীতে সমগ্র উত্তর ভারত ছিল জলের আচ্ছাদনে নিমজ্জিত। পৃথিবীর অন্যান্য কিছু অংশে যখন সংগঠিত মানব সমাজ সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেই সময় ‘উত্তর ভারত’ নামে পরিচিত ভৌগোলিক অঞ্চল ছিল সমুদ্র জলে নিমজ্জিত। সে কথা বর্তমান হতে প্রায় ৭০০০ বছর পূর্বকালের বলে জানা যায়। ধীরে জল অপসারিত হয়ে শুষ্ক ভূমির উদ্ভব হয়েছে। ‘বাংলা’ নামে পরিচিত ভূভাগ ভৌগোলিক উত্তর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘বাংলা’ নামে পরিচিত উত্তর ভারতের সেই অংশ জলে নিমজ্জিত ভূমি থেকে শুষ্ক ভূমিতে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছিল বর্তমান হতে আনুমানিক ৫০০০ বছর পূর্বকালের আশেপাশের কোনো এক সময়ে।
কোনরকম ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে বর্তমান সময় হতে আনুমানিক ৫০০০ বছর পূর্বের সমগ্র উত্তর ভারত ব্যাপী বিস্তৃত সেই জলাভূমির প্রান্তে পৌঁছে যাত্রা শেষ হয়েছে ভারতের অতীত সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করতে মনস্থ করা সমস্ত বিদ্বানগণের। অত্যুজ্জ্বল সেই বিদ্বানগণের দলে যেমন ছিলেন বাংলার নবজাগরণে অংশগ্ৰহণ করা স্থানীয় জ্ঞানীগুণীগণ, তেমনই সেই দলে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপের অনেক গণ্যমান্য বিদ্বানগণ। ফলতঃ, বাংলা তথা ভারতের অতীতকে সঠিকরূপে অনুধাবন করতে বিঘ্ন ঘটেছে।
সবথেকে সাম্প্রতিক কালে বাংলার নবজাগরণের কালে যখন ভগ্নস্তুপ থেকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষাকে উদ্ধার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল ইউরোপীয়দের তত্ত্বাবধানে, তখন সেই উদ্যোগের একমাত্র সর্বজন-মান্য ভারতীয় কান্ডারী রূপে উপস্থিত হয়েছিল সংস্কৃত ভাষা। বর্তমান মানুষের নিকট ইতিহাস’ অর্থাৎ রামায়ণ, মহাভারত, ইত্যাদির বর্ণনা কখনই সর্বজনমান্য তথ্য রূপে স্বীকৃত হতে পারে নি। অনেক মানুষের মত অনুযায়ী সেগুলি কল্পনাপ্রসূত কাহিনী। সেই বিরোধী মতামতকে খণ্ডন করার মত বর্তমান পৃথিবীতে গ্রাহ্য, অকাট্য যুক্তির অবতারণা করা সম্ভব হয় নি ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ধ্বজাবাহকদের দ্বারা। বর্তমানে সেই বিবরণসমূহ কল্পগল্পের অঙ্গ রূপে বিবেচিত হয়ে থাকে প্রথাগত শিক্ষার জগতে।
বেদ পরবর্তী ভারতে বৈদেশিক শক্তির আগ্রাসনের (দেশ এবং সংস্কৃতির) পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত ভাষার ব্যবহারে ভিত্তিহীন কোনো কিছুর অস্তিত্ব মেনে নেওয়া হয়নি। সংস্কৃত ও তাকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভাষায় নিহিত আছে অতীতে দৃষ্টিপাত করার চাবিকাঠি। সেই সময়ে ব্যক্তি অথবা স্থানের নামকরণ অত্যন্ত বিবেচনাপূর্বক ভাবে করার প্রবণতা ছিল। প্রাগৈতিহাসিক ও প্রাচীন সাহিত্যগুলিতে এর প্রমাণ সর্বত্র। সংস্কৃত ভাষার উৎপত্তির প্রক্রিয়া এবং তার ব্যাকরণভিত্তিক গঠন, ভিত্তিহীন হবার এবং খেয়ালিপনা প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকার প্রেরণা যোগায়। সংস্কৃত ব্যাকরণের চর্চা একজন অধ্যয়নকারীকে আপনা থেকেই যুক্তির পথ অনুসরণকারী হয়ে উঠতে প্রেরিত করে।
বাংলা তথা ভারতের সাংস্কৃতিক পরিধির অমীমাংসিত, জোড়াতালি দিয়ে থেকে দেওয়া বিষয়গুলির প্রতিটির যুক্তিভিত্তিক ও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া সম্ভব হয়েছে যখন সেই বিষয়গুলিকে প্রাগৈতিহাসিক ভারতীয় রচনায় উপস্থিত নানা সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে বর্তমান অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায়। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভৌত প্রকৃতির প্রমাণেরও সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়েছিল সেই ব্যাখ্যার সমর্থনে। যাত্রাশেষে নারু একথা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল যে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থানে স্থিত একটি অগভীর সামুদ্রিক অঞ্চলের পূরিত হয়ে মনুষ্যবাসোপযোগী শুষ্কভূমিতে রূপান্তরিত হওয়ার যে ভৌগোলিক চিত্র উঠে আসে তার সাথে বর্তমান বাংলা ভাষার উদ্বর্তনের ইতিহাসের সম্পূর্ণ সাযুজ্য বর্তমান।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, ‘বাংলা’ ও ‘বঙ্গ’ শব্দগুলি বিশেষ্য প্রকৃতির শব্দ। হাজার পাঁচেক বছর পূর্বকালে পৌঁছে বাংলার অতীত অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া থমকে যাওয়াই বর্তমান সিদ্ধান্তের মূল কারণ। সেই সময়কাল পর্যন্ত অনুসন্ধানে অনুসন্ধাণীগণের চোখে এমন কিছু পড়েনি যার দ্বারা সেই শব্দ দুটিকে বিশেষণ রূপে বিচার করা যায়। কোনো গুণের বহিঃপ্রকাশ সেই শব্দদুটির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নারুর যাত্রা তাকে দেখিয়েছে যে, প্রাগৈতিহাসিক ভারতে নামকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতো প্রায় সর্বাংশে বিশেষণ পদ দ্বারা। প্রাগৈতিহাসিক ও প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের সংস্পর্শে এলে দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সেকালে ভারতীয় উপমহাদেশে স্থান ও ব্যক্তির নামকরণের ক্ষেত্রে বিশেষণ পদ ব্যবহারের রীতি প্রচলিত ছিল। সংশ্লিষ্ট সত্ত্বার—তা কোনো স্থানই হোক বা কোনো ব্যক্তি—কোনো না কোনো বৈশিষ্ট্য বা গুণ প্রকাশ করার জন্যই প্রতিটি নাম ব্যবহৃত হতো। নিজের যাত্রাপথের শেষে নারু উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, ‘বাংলা’ বা ‘বঙ্গ’—কোনোটিই বিশেষ্য প্রকৃতির নয়। সেই দুটি শব্দই বিশেষণ প্রকৃতির। সেই অনুসন্ধান মূলক যাত্রার মূল প্রোথিত ছিল এক বিশ্বাসে যে সেই দুটি শব্দই কোনো প্রকার গুণের প্রকাশ-কারী। সেই অনুমানিত গুণাবলীর সন্ধানে পরিচালিত হয়েছে নারুর যাত্রা।
এই পুস্তকটি বাংলা সংক্রান্ত নারুর সম্পূর্ণ বৌদ্ধিক যাত্রা প্রক্রিয়ার নির্যাস স্বরূপ একটি উপস্থাপনা। যে শক্তি তার যাত্রায় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে তারই দৃঢ় দাবী পূরণ করার উদ্দেশ্যে এই পুস্তকটিতে সমগ্র বিবরণকে একটি প্রথাগত অনুসন্ধান মূলক বিবরণীর আকারে উপস্থাপনার প্রচেষ্টা করেছে নারু।
Currently there are no reviews available for this book.
Be the first one to write a review for the book বাংলার উৎপত্তি ষোড়শ পর্ব প্রাথমিক অনুমান: কল্পগল্প.